২০২১ সালের নোবেল পুরস্কার বিজয়ী কত জন

নোবেল বিজয়

বিশ্বের সবচেয়ে সম্মানজনক পুরস্কার নোবেল। ১৯০১ সালে প্রবর্তিত এ পুরস্কার বর্তমানে প্রদান করা হয় ৬ টি বিষয়। চিকিৎসা রসায়ন পদার্থ সাহিত্য শান্তি ও অর্থনীতিতে। সারা বিশ্বের সফল বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এবং অন্যান্য সাধারণ গবেষণা ও উদ্ভাবন এবং মানবকল্যাণমূলক তুলনারহিত কর্মকাণ্ডের জন্য দেয়া হয় এ পুরস্কার।

২০২১ সালে নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তদের নিয়ে সাজানো হয়েছে আজকে আমাদের এই আর্টিকেল।

মোট বিজয়ী সংখ্যা 13 জন পুরুষ 12 জন এবং নারী একজন।

পুরস্কারের অর্থমূল্য ১ কোটি ক্রোনার।

চিকিৎসা বিজ্ঞান

চিকিৎসাবিজ্ঞানে দুজনকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়।

* ডেভিড যুলিয়াস।
জন্ম ৪ নভেম্বর ১৯৫৫ সালে, নিউইয়র্ক যুক্তরাষ্ট্র।

* আর্ডেম পাটাপুটিয়ান
জন্ম ২ অক্টোবর ১৯৬৭ সালে, বৈরুত লেবানন।

মানুষের উষ্ণতা এবং স্পর্শের অনুভূতি বুঝতে পারার রিসেপ্টর আবিষ্কারের জন্য।

গবেষণা রিসার্চ

তাপমাত্রা আর চাপের অনুভূতি বহন করায় কি করে স্নায়ু তারণা সৃষ্টি হয়। এবং কোন সিস্টেম এর রিসেপ্টর গুলো প্রয়োজন হয় তারা সেই বিষয়ে আবিষ্কার করে। তাপমাত্রা স্পর্শানুভূতি আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু তাদের এই আবিষ্কারের আগে আমাদের স্নায়ুতন্ত্র কিভাবে পরিবেশ থেকে তারা বুঝতে পারে তা ছিল এক রহস্য।

তাদের এ আবিষ্কারের ফলে চিকিৎসাবিজ্ঞানে খুলে যায় নতুন দিগন্ত। সপ্তদশ শতাব্দীতে দার্শনিক রেনে দেকার্ত দেহের বিভিন্ন অংশের সাথে মস্তিষ্কের সংযোগকারী সুতার কথা কল্পনা করেন। পরবর্তীতে আবিষ্কৃত হয় অনুভূতি বহন করে নিয়ে যায় স্নায়ু।

মহিষ আমাদের চামড়ার জ্বালাপোড়া অনুভূতি দেয়। এজন্য দায়ী হলো একমাত্র ক্যাপ সাইন ইন। বিজ্ঞানী ডেভিড জুলিয়াস। মরিচের উপস্থিতির k53 ব্যবহার করে এমন এক সেন্সরের উপস্থিতি প্রমাণ করেন যা তাপমাত্রা প্রতি সংবেদনশীল। এটি কাজ করে স্পর্শ অনুভূতি তৈরিতে এছাড়াও শ্বাস-প্রশ্বাস রক্তচাপ এমনকি হাড়ের পূর্ণ গঠনেও রয়েছে এর রিসেপ্টর এর ভূমিকা।

এ জন্যই মূলত তাদেরকে মানুষের উষ্ণতা এবং সংস্পর্শের অনুভূতি বুঝতে পারার ইলেকট্রন আবিষ্কারের জন্য তাদের দুজনকে নোবেল পুরস্কার দেয়া হয়।

পদার্থবিদ্যা

* সুকুরো মানাবে
জন্ম ২১ সেপ্টেম্বর ১৯৩১ সালে।সিনজু জাপান।

* ক্লাউস হাসেলমান
জন্ম ২৫ অক্টোবর ১৯৩১ সালে,হামবুর্গ, জার্মানি।

জর্জিও পারিসি
জন্ম ৪ আগস্ট ১৯৪৮ সালে,রোম, ইতালি।

পদার্থবিজ্ঞানে মোট তিনজন কে নোবেল পুরস্কার দেয়া হয়।

ফিজিক্যাল কমপ্লেক্স সিস্টেম বা জটিল ভৌত ব্যবস্থা নিয়ে গবেষণার জন্য।

পুরস্কারের অর্ধেক অর্থ পাবেন যদি ফারিসী বাকি অর্ধেক অর্ধেক সমান হারে পাবেন শুক্র মানাবে ও মুসলমান।

রিসার্চ গবেষণা

পৃথিবীর জলবায়ু মানবজাতির জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। বিজ্ঞানী শুক্র মানাবে গবেষণায় দেখান বায়ুমণ্ডলের কার্বন ডাই অক্সাইডের মাত্রা বাড়লে ভূ পৃষ্ঠের তাপমাত্রা বেড়ে যায়। পাশাপাশি প্রথম মানুষ হিসেবে তিনি কাজ করেন তেজস্ক্রিয়তার ভারসাম্য ও বায়ু পুষ্পের লম্বভাবে ওঠা-নামার মধ্যকার মিথস্ক্রিয়া নিয়ে।

তার কাজের ওপর নির্ভর করে গড়ে উঠেছে বর্তমান সব চালু জলবায়ুর মডেল। ১৯৬০ সালে মানব এর নেতৃত্বে একদল বিজ্ঞানী পৃথিবীর প্রথম জলবায়ুর ভৌত মডেল তৈরি করেন।

ব্লাউজ হাসিলবাগ আবহাওয়া ও জলবায়ুর মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে একটি মডেল তৈরি করেন। তার গবেষণা অনুযায়ী আবহাওয়া পরিবর্তনশীল এবং বিশৃংখল একটি বিষয়। তিনি প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম ঘটনা আলাদাভাবে চেনার উপায় আবিষ্কার করেন।

নির্দিষ্ট ধরনের সিগন্যাল দেখা একটি বোঝা সম্ভব। একে বলা হয় আংগুলের সাপের মত। স্পষ্ট বোঝা যায় যে কোন ঘটনা যেমন কোন বিপর্যয় বা বনাঞ্চলে অগ্নিকাণ্ড প্রাকৃতিক নাকি কৃত্রিম।

১৯৮০ সালে জর্জ জিও প্যারিসি বিশৃংখল জটিল পদার্থের মাঝে লুকিয়ে থাকা গোপন প্যাটার্ন বিন্যাস আবিষ্কার করেন। জটিল ব্যবস্থা নিয়ে যেসব তথ্য আছে সেগুলোর মধ্যে তাঁর তত্ত্বটি উল্লেখযোগ্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এসব তথ্যের উপর ভিত্তি করে ভিন্ন ভিন্ন পুরো এলোমেলো ধরনের নানা ঘটনা ও পদার্থকে বোঝা যায়।

তাদের ব্যাখ্যা করা যায়। শুধু পদার্থবিজ্ঞানী নয় তার কাজ গণিত জীববিজ্ঞান স্নায়ুবিজ্ঞান এবং মেশিন লার্নিং এর মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। কোয়ান্টাম ক্রোমো ডাইনামিকস থেকে শুরু করে কনডেন্স ম্যাটার ফিজিকস ডাইনামিক সিস্টেম ইত্যাদি ক্ষেত্রে তাঁর অবদান অবিস্মরণীয়।

অর্থনীতি

* ডেভিড কার্ড
জন্ম ১৯৫৬ সালে,গুয়েলফ, কানাডা।

* জোশুয়া ডি অ্যাংরিস্ট
জন্ম ১৮ সেপ্টেম্বর ১৯৬০ সালে,কলম্বাস,যুক্তরাষ্ট্র।

* গুইডো ডব্লিউ ইমবেনস
জন্ম ৩ সেপ্টেম্বর ১৯৬৩ সালে,নেদারল্যান্ডস।

শ্রম বাজার বাপ প্রাকৃতিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা থেকে কি ধরনের কার্যকর করুন সম্পর্কে নিরূপণ করা যায় সে বিষয়েও নতুন অন্তর্দৃষ্টির সন্ধানের জন্য।

পুরস্কারের অর্ধেক অর্থ পাবেন ডেবিট কার্ড বাকি অর্ধেক দুজনে সমান হারে ভাগ করে নিন।

রিসার্চ গবেষণা

সামাজিক বিজ্ঞানের অনেক বড় বড় প্রশ্ন ও প্রসঙ্গে কার্যকারণ সম্পর্কে ঘিরে আবর্তিত হয়। জেমন অভিবাসন মানুষের বেতন-মজুরি বা কাজের স্তরে কি প্রভাব ফেলে। উচ্চশিক্ষা বা শিক্ষার মেয়াদ মানুষের ভবিষ্যৎ কিভাবে প্রভাব ফেলে।

এ ধরনের প্রশ্নের উত্তর দেয়া কঠিন কারণ সব বিচার করার ক্ষেত্রে গবেষণা ও গবেষকদের হাতে তুলনামূলক মানদন্ড থাকেনা। ইংলিস্ট ও ইমরান দেখান যে যারা 12 বছর পড়াশোনা করেছেন তাদের আয়ের 11 বছর পড়াশোনা করা মানুষের চেয়ে 12 শতাংশ বেশি এবং যারা 16 বছর পড়াশোনা করেছেন তাদের আয়ের 65 শতাংশ বেশি।

শিক্ষার মেয়াদ বাধ্যতামূলকভাবে 1 বছর বৃদ্ধি করা হলে তার প্রভাব সবার ওপর সমানভাবে পড়ে না এবং কিভাবে এ সমস্যার সুনির্দিষ্ট উপসংহার টানা হয় তা দেখান। ডেবিট কার্ড একজন অর্থনীতিবিদ। তিনি দেখান অভিবাসনের ফলে কোন দেশের অর্থনীতিতে মন ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বিভিন্ন সময়ের অভিবাসন বিশ্লেষণ করে তিনি দেখান দেখান। কিন্তু নতুন অভিবাসন এর ফলে যারা আগে অভিবাসী হিসেবে যান তাদের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

ডেবিট কার্ড আরো বলেন বিদ্যালয়ের সম্পদের সাথে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতে শ্রম বাজারে প্রবেশের সম্পর্ক আছে। সেই নব্বই দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে তিনি এ বিষয় নিয়ে গবেষণা করে আসছেন।

সাহিত্য

* আব্দুল রাজাক গুরনাহ
জন্ম ২০ ডিসেম্বর ১৯৪৮ সালে,তানজানিয়া

আব্দুর রাযযাক গুনাহের আপোষহীন ওদরদি লেখায় উপনিবেশিকতার দুর্দশা আর শরণার্থীদের জীবনের নানা কষ্ট ব্যঞ্জনার গল্প ফুটে উঠেছে সুইডিশ অ্যাকাডেমি তে।

তার সাহিত্যকর্মে উপন্যাস দাসত্বের বেড়াজালে আত্মপরিচয় এবং স্থানান্তরের বিষয়গুলো ঠাঁই পেয়েছে। এ কারণেই মূলত তাকে এই নোবেল পুরস্কার দেয়া হয়।

রসায়ন

* বেন্জামিন লিস্ট
জন্ম ১১ জানুয়ারি, ১৯৬৮ সালে ফ্রাংকফুর্ট, জার্মানি।

* ডেভিড উইলিয়াম ত্রুস ম্যাকমিলান।
জন্ম ১৬ মার্চ ১৯৬৮ সালে,বেনশিল যুক্তরাজ্য।

জৈব অণু ঘটক বিক্রিয়া আবিষ্কারের জন্য।

গবেষণা রিসার্চ

এ দুই বিজ্ঞানী আলাদাভাবে তৃতীয় এক ধরনের অনু গঠন প্রক্রিয়া আবিষ্কার করেন যা জীববিজ্ঞান এর অনেক জটিল এনজাইম বা অনুঘটক এর মত কার্যকরী অনু তৈরি গতি বাড়ায়। এই প্রক্রিয়ার নাম অপ্রতিসম জৈব অনুঘটক।

এক্ষেত্রে অতিক্ষুদ্র জৈব অণু প্রভাবক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তাদের গবেষণার আগে বেশিরভাগেই অনুঘটক হয়েছিল ভিত্তিক। অনুঘটক গুলোতে ইলেকট্রন ধরে রাখা এবং চলাচলের জন্য অধাতব পরমাণুর গুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটাই অণুগুলোর মধ্যে পারমাণবিক বন্ধনগুলো মিছিল এবং পূর্ণ বিন্যাসের অন্যতম চাবিকাঠি।

শান্তি

* মারিয়ারেশা
জন্ম ২ অক্টোবর ১৯৬৩ সালে,ম্যানিলা, ফিলিপাইন।

* দিমিত্রি মুরাতভ
জন্ম ৩০ অক্টোবর ১৯৬১ সালে, সামারা,রাশিয়া।

মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র হচ্ছে স্থায়ী শান্তির একটি পূর্ব শর্ত সেই স্বাধীনতা রক্ষায় ভূমিকা রাখার জন্য।

মারিয়া রেশা সংবাদপত্রের স্বাধীনতার খুঁটি ফিলিপাইনের প্রবীণ সাংবাদিক মারিয়ার এশা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সাবেক অনুসন্ধানী প্রতিবেদক। তিনি তার সাংবাদিকতায় ১ জানুয়ারী ২০১২ তিনি এবং আরো কয়েকজন মিলে রেপার নামের অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করেন।

বর্তমানে তিনি সেটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। প্রেসিডেন্ট দুতার্তে এবং ভয়ঙ্কর মাদকবিরোধী যুদ্ধের বিরুদ্ধে সমালোচনা প্রতিবেদন প্রকাশের জের এশা ও তার প্রতিষ্ঠিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল আরে পেলেয়ার কে বেশ কয়েকদিন ফৌজদারি মামলার মোকাবেলা করতে হয়েছে। তারপরও তিনি পিছু হটেননি এ কারণেই তাকে তাকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়।

দিমিত্রি মুরাদ শরণার্থীদের হারিয়ে যাবে। তার পেশাগত জীবনে দুটি তাৎপর্য পূর্ণ সময়ের প্রত্যক্ষদর্শী যেটা রাশিয়ার ইতিহাসে তো বটেই বিশ্ব রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণেই তাকে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী বলে ঘোষণা করা হয়।

Leave a Comment