শিক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন বদলে যাচ্ছে শিক্ষা কারিকুলাম

শিক্ষা নীতি

শিক্ষা নীতিতে অনেক আপডেট থাকবে। শিক্ষায় অনেক ধরনের পরিবর্তন হবে।
শিক্ষার্থীদের ওপর চাপ কমাতে এবং বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক পরিবর্তন আনছে সরকার। প্রাক-প্রাথমিক থেকে শুরু করে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন এনে জাতীয় শিক্ষাক্রম এর রূপরেখা প্রণয়ন করেছে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড। ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২১ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষাক্রম এর খরচা রুপরেখা অনুমোদন করেন।

নতুন শিক্ষাক্রম এর লক্ষ্য

নতুন জাতীয় শিক্ষাক্রম এর মূল লক্ষ্য পড়াশোনাকে আনন্দময় করে তোলা। একেই সাথে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ে কমাবে। শ্রেণিকক্ষে তাদের বেশিরভাগ পাঠ্য গ্রহণ শেষ করা নিশ্চিত করা। অর্থাৎ পুরো শিক্ষাক্রম হবে শিক্ষার্থী কেন্দ্রিক। তাই নতুন শিক্ষাক্রম এর লক্ষ্যমাত্রা সাথে আমাদের একমত হওয়া উচিত।

বিভাগ বিভাজন

নতুন শিক্ষাক্রমে অষ্টম থেকে নবম শ্রেণী উত্তীর্ণ হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগের বিভাজন থাকছে না। দশম শ্রেণীর আগে কোন পাবলিক পরীক্ষা নেওয়া হবে না। দশম শ্রেণীর পর এসএসসি নামের পাবলিক পরীক্ষা হবে তা হবে শুধু দশম শ্রেণী পাঠ্যসূচির ভিত্তিতে। নেই বিভাগ বিভাজন বিস্তার।

10 টি বিষয় বাধ্যতামুলক

নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত সব শিক্ষার্থীকে দশটি অভিন্ন বিষয়ে পড়তে হবে। সেগুলো হলো বাংলা ইংরেজি গণিত বিজ্ঞান তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সামাজিক বিজ্ঞান জীবন ও জীবিকা ধর্ম শিক্ষা স্বাস্থ্য শিক্ষা এবং শিল্প ও সংস্কৃতি। এরপর একাদশ শ্রেণিতে গিয়ে শাখা পরিবর্তনের সুযোগ রাখা হবে। আপনারা পরবর্তীতে এগুলো শাখা পরিবর্তন করতে পারবেন কিন্তু সেটা এসএসসির পরে আগে নয়।

মূল্যায়ন পদ্ধতি

শিক্ষাক্রম এর রূপরেখা অনুযায়ী প্রার্থ প্রাথমিক প্রথম দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণীতে কোন পরীক্ষা থাকবে না। এসব শ্রেণীতে শতভাগমূল্যায়ন হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষণ কালীন ধারাবাহিকতার ওপর ধারাবাহিক শিখন কার্যক্রমের ভিত্তিতে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণীতে বাংলা ইংরেজি গণিত বিজ্ঞান ও সামাজিক বিজ্ঞান বিষয়ে ৬০% মূল্যায়ন হবে। এবং বাকি ৪০% মূল্যায়ন হবে পরীক্ষার ভিত্তিতে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষণ কালীন কার্যক্রমের ভিত্তিতে শ্রেণির শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা ধর্ম শিক্ষা এবং শিল্পকলা পুরোটাই মূল্যায়ন হবে।

ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণীতে বাংলা ইংরেজি গণিত বিজ্ঞান ও সামাজিক বিজ্ঞান বিষয়ে ৬০% মূল্যায়ন হবে শীতকালীন। এর বাইরে আরও পাঁচটি বিষয়ে শতভাগ মূল্যায়ন হবে। ধারাবাহিক শিক্ষা কার্যক্রমের ভিত্তিতে সেগুলো হলো জীবন ও জীবিকা তথ্য-ও-যোগাযোগ-প্রযুক্তি স্বাস্থ্যশিক্ষা ধর্ম শিক্ষা এবং শিল্প ও সংস্কৃতি নবম ও দশম শ্রেণীতে এই পাঁচটি বিষয়ে কিভাবে মূল্যায়ন হবে। এর বাইরে এই দুই শ্রেণীতে বাংলা ইংরেজি গণিত বিজ্ঞান ও সামাজিক বিজ্ঞান বিষয়ে ৫০% মূল্যায়ন হবে। শীতকালীন বাকি মূল্যায়ন হবে পরীক্ষার মাধ্যমে। একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীতে গিয়ে পরীক্ষার মাধ্যমে মূল্যায়নের বেশি জোর দেয়া হবে।

এই দুই শ্রেণীতে ৭০% মূল্যায়ন হবে পরীক্ষার মাধ্যমে এবং বাকি ৩০ শতাংশ মূল্যায়ন হবে শিক্ষণ কালী।

নতুন কারিকুলাম

* ২০২২ প্রাথমিক ও মাধ্যমিক এর ১০ টি করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাইলিং কার্যক্রম। তার মধ্যে কারিগরি ও মাদ্রাসা কে যুক্ত করা হবে।

* ২০২৩ প্রাথমিকের প্রথম ও দ্বিতীয় এবং মাধ্যমিকের ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণী।

* ২০২৪ প্রাথমিকের তৃতীয় ও চতুর্থ এবং মাধ্যমিকের অষ্টম ও নবম শ্রেণী।

* ২০২৫ প্রাথমিকের পঞ্চম এবং মাধ্যমিকের দশম শ্রেণি।

* ২০২৬ একাদশ শ্রেণি।

* ২০২৭ সর্বশেষ দ্বাদশ শ্রেণীতে চালু হবে নতুন কারিকুলাম।

সাপ্তাহিক ছুটি

প্রাথমিকে সাপ্তাহিক ছুটি একদিন এবং মাধ্যমিক স্তরের দুই দিন ছুটি থাকবে। তবে জাতীয় দিবসগুলোতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে। এবং এসব দিবস পালন শিক্ষা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে।

এইচএসসি পরীক্ষা বাতিল

একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীর শেষ করার পর এইচএসসি ও সমমানের পাবলিক পরীক্ষা নেয়া হবে না একাদশ শ্রেণিতে। বছর শেষে একটিও দ্বাদশে আরেকটি পরীক্ষা নেয়া হবে। এ দুইটি পাবলিক পরীক্ষার ফল মূল্যায়ন করে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হবে।

বিশেষ কথা

এসএসসি পর্যন্ত কোন পাবলিক পরীক্ষা নেই।
এইচএসসিতে বোর্ড পরীক্ষার পরিবর্তে দা একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীতে দুইটি পাবলিক পরীক্ষা।
তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য থাকবে না কোন পরীক্ষা।

২০২৩ সাল থেকে ধাপে ধাপে এবং ২০২৭ সালের মধ্যে সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়ন।

একাদশ এর আগে কোন বিভাগ থাকবে না।
ষষ্ঠ দশম শ্রেণী পর্যন্ত অভিন্ন দশটি বিষয়ে পড়তে হবে।
প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী এবং জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা থাকবে না।
এসব নীতিমালা খুব তারাতারি বাস্তবায়ন করা হবে।

Leave a Comment