রাগ নিয়ন্ত্রণের জন্য কার্যকর উপায় কি কি?

রাগ নিয়ন্ত্রণের কার্যকর উপায়ঃ

রাগ একটি স্বাভাবিক আবেগ। তবে মাত্রাতিরিক্ত রাগ আমাদের সুন্দর সম্পর্ক গুলো নষ্ট করে। কর্মজীবন সহ জীবনের সকল ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। রাগ দিয়ে কোনো সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। বরং তা সমস্যা আরো বাড়িয়ে দেয়।
তাই রাগ নিয়ন্ত্রণ করা একটি অপরিহার্য বিষয়। রাজ নিয়ন্ত্রণে নিম্নে বর্ণিত কৌশল বা পদ্ধতিগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সেসব হল।

কথা বলার আগে সময় নিনঃ

রাগ উঠলে কিছু বলার আগে কয়েক মুহূর্ত সময় নিন। যদি কথা বলতে হয় তবে ভেবেচিন্তে বলুন। কারণ এর জন্য নতুন ও বড় আকারে ঝামেলা সৃষ্টি হতে পারে।

মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে নিনঃ

হঠাৎ করে রাগের মাথায় কোনো কথা বা কাজ করে বসবেন না। সাধারন ভদ্রতা দেখিয়ে তার সামনে থেকে চলে আসুন বা নিজেকে নিজের মনকে অন্যদিকে সরিয়ে নিন।

একটু হেঁটে আসুনঃ

একেবারেই রাগ সামলাতে না পারলে অল্প সময়ের জন্য হলেও একটু হেঁটে আসুন। এতে রাগ করার সুযোগ তৈরি হবে না। বরং আপনার মনে একটু শান্ত হওয়ার সুযোগ পাবে।

ইতিবাচক চিন্তা করুনঃ

প্রতিটি ঘটনার একটা ভালো দিক আছে সেটা চিন্তা করে বের করুন। যাই ঘটুক ঘটনার নেতিবাচক দিক না খুঁজে ইতিবাচক দিক খেয়াল করুন। যাতে রেগে যেতে না হয়।

ক্ষমা করতে শিখুনঃ

মানুষ ভুল করবে এটাই স্বাভাবিক। তাই কারো ভুলের জন্য রেগে যাওয়া বুদ্ধিমানের কাজ না। রাগ পুষে না রেখে তাকে ক্ষমা করে দিন। এতে পরবর্তীতে আপনার নিজেরই ভালো লাগবে।

মেনে নেওয়ার অভ্যাস করুনঃ

সব সমস্যার সমাধান হয় না, কিছু প্রশ্নের উত্তর হয় না। তাই মেনে নেওয়ার ক্ষমতা বাড়ানো। মেনে নেওয়া মানে হেরে যাওয়া নয়। জীবনে অপ্রাপ্তিরপাশাপাশি অনেক। প্রাপ্তির আছে। সেদিকে মনোযোগ দিন।

মাথা ঠান্ডা হলে এই রাগের প্রকাশ করুনঃ

তখন ঐ আপনি রাগ প্রকাশ করুন যখন বিষয়টি নিয়ে ভাবতে পারছেন। যত রাগই হোক অন্যকে অপমান করা কাজের কথা নয়।

রিলাক্স হওয়ার চেষ্টা করুনঃ

রিলাক্সেশন এর মাধ্যমে রাগ নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়। এসময় জোরে জোরে গভীর নিঃশ্বাস ফেলুন। গান শুনুন বই পড়ুন আপনার যা যা করতে ভালো লাগে তা করুন।

মানসিকভাবে স্থির থাকুনঃ

মানসিক অস্থিরতা অতিরিক্ত রাগের একটি কারণ। মানসিক অস্থিরতায় সবকিছু ভুল মনে হয়। ফলে আমরা সামান্যতেই রেগে যাই। তাই মানসিকভাবে স্থির থাকুন।

অতিরিক্ত রাগ জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। রাগকে নিয়ন্ত্রন করতে বিশিষ্ট মার্কিন বিজ্ঞানী মনোবিজ্ঞানী রেমন্ড ও হাওয়ার ক্যাসিনো। এই বিজ্ঞানী তারা কয়েকটি উল্লেখযোগ্য সমস্যা তুলে ধরেছেন।
সেগুলো হলোঃ

জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করা।

সমস্যার সমাধান খোঁজা।

রাগকে নিয়ন্ত্রণে চিন্তা ধারায় পরিবর্তন আনা।
ক্ষমা করা।
রিলাক্সেশন এর মাধ্যমে মনকে স্থির করা।
রাগ সংবরণ এর কার্যকর কৌশল আয়ত্ত করা।

সমাধান খোঁজার চেষ্টা করুনঃ

পৃথিবীতে কারণ ছাড়া কোন কিছুই ঘটে না। সমস্যা থাকলে তার সমাধানও থাকবে। তেমনি আপনার রাগ হওয়ার কারণ থাকলে অবশ্যই তার সমাধান খুঁজে বের করুন। অতিরিক্ত রাগ পরিহার করুন।

রাগ না হওয়ার প্রতিজ্ঞা করুনঃ

যাই কিছু হোক আমি রাগবোনা এ প্রতিজ্ঞা টা নিজেই নিজেকে নিজের কাছে করুন। রাগের পরিস্থিতি তৈরি হলে মনে মনে নিজেকেপরামর্শ দিতে থাকুন যে আমি রাগ করবো না। এতে রাগ নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে।

রসবোধ বাড়ানঃ

সব সময় সিরিয়াস না থেকে মাঝে মাঝে মজা করুন। কৌতুক করুন, পরিবেশকে হালকা করুন। রাগ হওয়ার অবস্থা তৈরি হচ্ছে বুঝতে পারলে, সেটা স্বাভাবিক করার জন্য মজার কিছু করার চিন্তা করুন।

সংখ্যা উল্টোদিকে গণনা করুনঃ

কোন কারণে রেগে গেলে বা রাগের পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে মনে মনে উল্টোদিকে গণনা করুন।

মনোবিজ্ঞানীদের সাহায্য নিনঃ

যে সমস্ত পদ্ধতিগুলোর দেওয়ার চেষ্টা করি, যদি রাগ নিয়ন্ত্রণ আনতে না পারেন। তবে মনোবিজ্ঞানীর সহায়তা নিতে পারেন। রাগ শুধু মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয়। মানুষকে জ্ঞান বিবেক ও ধর্মের পথে কেউ বিচ্যুত করে। রাগের কারণে মানুষের আচার-আচরণ ও চিন্তায় খারাপ প্রভাব পড়ে।

তাই, যেকোনো পরিস্থিতিতে রেগে না গিয়ে নিজেকে সংযত রাখার জন্য বিকল্প নেই।
আমাদের মনে হয় আপনি যদি এই পদ্ধতি গুলো অবলম্বন করেন, তাহলে রাগ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে আপনার ব্যক্তি জীবনে।

Leave a Comment