ম্যালেরিয়া কি? কিভাবে ম্যালেরিয়া রোগ থেকে দেশকে মুক্ত করতে পারবো

ম্যালেরিয়া

ম্যালেরিয়া মশা বাহিত একটি সংক্রামক রোগ। ম্যালেরিয়ার মূলে রয়েছে প্লাজমোডিয়াম গোত্রের পরজীবী। j5 প্রজাতির প্লাসমোডিয়াম এর কারনে ম্যালেরিয়া হয়। তার মধ্যে কারণ হলো প্লাজমোডিয়াম। ফেলোশিপের আম প্লাসমোডিয়াম ভাইভ্যাক্স প্লাজমোডিয়াম ওভাল এবং প্লাজমোডিয়াম ম্যালেরিয়া। ম্যালেরিয়ার জীবাণু মানুষের শরীরে পৌঁছায় স্ত্রী এনোফিলিস মশার মাধ্যমে। এ মশা গ্রীস্ম ও বর্ষা বেশি জন্মায় এবং এসময় রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি হয়। এ সময় ম্যালেরিয়ার প্রভাব বেশি থাকে।

ম্যালেরিয়ার ইতিহাস

ইতালি শব্দ মালা অর্থ দূষিত এবং আরিয়া অর্থ বায়ু থেকে আগত। ম্যালেরিয়া শব্দের অর্থ দূষিত বায়ু। চিকিৎসা শাস্ত্রের জনক হিসেবে বিবেচিত হিপোক্রেটিস প্রথম ম্যালেরিয়া রোগের লক্ষণ গুলোর বর্ণনা দেন। ১৬৬০ সালে ম্যালেরিয়ার চিকিৎসা প্রথম শুরু হয় পেরুর সিনকোনা গাছের বাকল ঔষধি হিসেবে ব্যবহারের মাধ্যমে। ১৬৪৯ সালে ইংল্যান্ডে এটা জেসুইট পাউডার নামে পাওয়া যেত। ১৭৫০ সালে ইতালির ফ্রান্সেস্কো পট্ট্রি ম্যালেরিয়া শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন। ১৮৮০ সালে চার্লস লেভেরণ লোহিত রক্তকণিকা থেকে ম্যালেরিয়ার কারণ হিসেবে একটি মাত্র কোষ বিশিষ্ট পরজীবী প্রোটোজোয়া কে চিহ্নিত করেন।

ভারতের কলকাতার পিজি হাসপাতালে কর্মরত ব্রিটিশ ডাক্তার স্যার রোনাল্ড রস ১৮৫৭ সালে প্রমাণ করেন যে, স্ত্রী এনোফিলিস মশা এ রোগের বাহক হিসেবে কাজ করে। ১৯০২ সালে তাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়। ১৯২০সালে ফরাসি বিজ্ঞানীরা দেখেন যে, সিনকোনা গাছের সালে কুইনাইন নামে একটা পদার্থ ম্যালেরিয়া রোগ প্রতিরোধে সক্ষম। ১৯৩৪ সালে ক্লোরোকুইন আবিষ্কারের পর এর ব্যবহার শুরু হয়।
এরপর চীনের নারী বিজ্ঞানী টু ইউ ইউ সুইট ওয়ার্মথগাছের নির্যাস থেকে তৈরি করেন। আর টি মিশিয়ে নিন নামের কার্যকরী ঔষধ। সর্বশেষে ১৯৮৭ সালে যুক্তরাজ্যের ওষুধ কোম্পানি জিএসকে ম্যালেরিয়ার টিকা উদ্ভাবন করেন।

ম্যালেরিয়া মুক্ত দেশ

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার WHO নিয়ম অনুযায়ী, কোন দেশ কিংবা ভূখণ্ডে পরপর তিন বছর ম্যালেরিয়া রোগ সনাক্ত না হলে, ম্যালেরিয়া মুক্ত দেশ হিসেবে স্বীকৃতির জন্য তারা আবেদন করতে পারেন। পরে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাইয়ের পর WHO তাদের স্বীকৃতি দেয়।

সর্বশেষ ৩০ জন ২০২১ বিশ্বের ৪০ তম অঞ্চল হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। WHO এর ৬১ টি দেশের আলাদা একটি তালিকা রয়েছে। এ তালিকার দেশগুলোর কখনোই ম্যালেরিয়া ছিল না কিংবা সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ ছাড়াই রোগটি নির্মূল করতে সক্ষম হয়েছে।

বাংলাদেশ ম্যালেরিয়ার উপস্থিতি

কৃতবিদ্য গবেষণা করেন যে বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ১২৩ প্রজাতির মশার খোঁজ পাওয়া গেছে। এরমধ্যে ঢাকাতেই ১৪ টি প্রজাতির মশা পাওয়া যায়। বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত মশাবাহিত পাঁচটি রোগের কথা জানা যায়। এরমধ্যে রয়েছে ম্যালেরিয়া ফাইলেরিয়া ডেঙ্গু চিকুনগুনিয়া এবং জাপানিজ এনসেফালাইটিস বর্তমানে বাংলাদেশের ১৩ টি জেলার দুটি থানায় ম্যালেরিয়া রোগের উপস্থিতি রয়েছে। এর মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামে তিন জেলাতেই ম্যালেরিয়ার প্রকাশ বেশি।

অর্থাৎ ম্যালেরিয়া আক্রান্তের ৯০ শতাংশই পার্বত্য তিন জেলায়। এই দশকে বাংলাদেশে ম্যালেরিয়া সংক্রমণ। ৮৭ দশমিক ৬ শতাংশ কমিয়ে আনা হয়েছে। ফলে জাতীয় লক্ষ্যঅর্থাৎ ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ম্যালেরিয়া মুক্ত হবে বলে আশা করা যায়। আর পুরো বিশ্ব ম্যালেরিয়া মুক্ত হওয়া লক্ষ্যমাত্রা ২০৫০ সালে।

ম্যালেরিয়ার টিকা অনুমোদন

দীর্ঘ গবেষণা আর প্রাণ প্রচেষ্টার পর, অবশেষে মশাবাহিত প্রাণঘাতী রোগ ম্যালেরিয়া প্রথম ভ্যাকসিন আবিষ্কার এর সফলতার মুখ দেখেন বিজ্ঞানীরা। যুক্তরাজ্যের ঔষধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান বিশ্বের প্রথমবারের মতো এ রোগের টিকা আবিষ্কার এর সক্ষম হয়।

৬ অক্টোবর ২০২১ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা WHO টিকার অনুমোদন দেয়। ২০১৯ সাল থেকে একটি পাইলট প্রকল্পের আওতায় ঘানা কেনিয়া ও মালা দিতে ৪ লাখ শিশুর শরীরে ২০ লাখের বেশি দোষ ম্যালেরিয়ার টিকা প্রয়োগ করা হয়। প্রকল্পের কর্মসূচির ফলাফলের ভিত্তিতে WHO এ সিদ্ধান্ত নেয়।

টিকার কার্যকারিতা

অনুমোদন পাওয়া আর টি এস এর টিকা শিশুদের শরীরে প্লাজমোডিয়ামফ্যালসিপেরাম এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করবে। ২০১৫ সালে ক্লিনিকাল ট্রায়াল দেখা যায় এটিকা প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৪ জনের শরীরে ম্যালেরিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে। তবে কার্যকর সুরক্ষা পেতে এটি কার চারটি দোষ নিতে হয়। শিশুর বয়স পাঁচ মাস হলে ১ মাস অন্তর প্রথম তিনটি দোষ দিতে হয়। আর চতুর্থ boosterdoj দিতে হবে ১৮ মাস বয়স হওয়ার পর।

বিশ্বের অন্যতম পুরানো এবং প্রাণঘাতী সংক্রামক রোগ ম্যালেরিয়া। ৬ অক্টোবর ২০২১ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা WHO প্রথম ম্যালেরিয়ার টিকা অনুমোদন দেয়। ১০০ বছরের বেশি সময় চেষ্টার পর ম্যালেরিয়া একটি কার্যকর টিকা তৈরির বিষয়টি চিকিৎসা শাস্ত্রের একটি অর্জন।

তাই ম্যালেরিয়া রোগ থেকে আমাদেরকে বাঁচতে হলে অবশ্যই নিয়ম মেনে আমাদেরকে এইটিকা সম্পন্ন করতে হবে। ম্যালেরিয়া থেকে বাঁচতে হলে আমাদেরকে অবশ্যই টিকা নিতে হবে।

Leave a Comment