আত্মকর্মসংস্থানে তথ্য ও প্রযুক্তি কি? কিভাবে অনলাইন থেকে টাকা আয় করবো | How to make money online 2022

আত্মকর্মসংস্থানে তথ্য ও প্রযুক্তি Science and technology

তথ্য ও প্রযুক্তি বর্তমান সময়ে একটি জনপ্রিয় বিষয়। ইংরেজি information technology (ইনফরমেশন টেকনোলজি) এর বাংলা প্রতিশব্দ হলো তথ্য ও প্রযুক্তি। ইংরেজি information (ইনফর্মেশন) শব্দটি ল্যাটিন শব্দ মূল information (ইনফর্মেশন) থেকে এসেছে। যার অর্থ কাউকে কোন কিছু অবগত করা অথবা পথ দেখানো শেখানো আদান প্রদান ইত্যাদি। আর Technology (টেকনোলজি) শব্দটি ব্যবহৃত হয় বহুমাত্রিক। আধুনিক জীবনযাত্রায় প্রযুক্তি হল Electronic (ইলেকট্রনিক) যন্ত্রপাতির সমন্বয়ে গঠিত একটি মিশ্র পদ্ধতি যার মাধ্যমে জীবনযাত্রা পূর্বের তুলনায় আরও সহজ হয়ে ওঠে। সর্বোপরি তথ্য আহরণ সংরক্ষণ প্রক্রিয়াকরণ ও বিতরণ এর সাথে সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া ও ব্যবস্থাকে প্রযুক্তি বা information technology (ইনফরমেশন টেকনোলজি) বলা হয়। তথ্যপ্রযুক্তি শুধু জীবনযাত্রার মান উন্নত করে না দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বর্তমান যুগ তথ্য ও প্রযুক্তির যুগ। শুধু চাকুরী মুখী না থেকে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় গড়ে তোলা যায় আইটি ফার্ম ই-কমার্স সাইট এ ভিত্তিক সেবা সহ নানা প্রতিষ্ঠান। এতে অর্থায়ন অর্থনৈতিকভাবে নিজে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি বহু মানুষের কর্ম ক্ষেত্র তৈরী হয় এবং দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখা যায়।

Self imployment আত্মকর্মসংস্থানঃ

সহজ ভাষায় নিজেই নিজের কর্মসংস্থান করাকে আত্মকর্মসংস্থান বলে। অন্যভাবে বলা যায় নিজে নিজস্ব পুঁজি বারিন করা স্বল্প সম্পদ নিজস্ব চিন্তা জ্ঞান বুদ্ধিমত্তা ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে অন্যতম ঝুঁকি নিয়ে নিজ চেষ্টায় জীবিকা অর্জনের ব্যবস্থাকে আত্মকর্মসংস্থান বলে। মজুরি বা বেতন ভিত্তিক চাকরির প্রকল্প ব্যবসার অন্যতম উপায়।

আত্মকর্মসংস্থা কি?

আত্মকর্মসংস্থান বলতে কোন ব্যক্তির এশীয় দক্ষতা বা গুণাবলীর দ্বারা সেবাদানের বিনিময়ে অর্থ উপার্জন করে জীবিকা নির্বাহ করা কে বোঝায়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় যেতে পারে একজন দর্জি কোন প্রতিষ্ঠানে বেতনের বিনিময় উপার্জন না করে নিজেই কাপড় তৈরি করে বিক্রি করে এবং এ থেকে যে আয় হয় তা দ্বারা জীবিকা নির্বাহ করে। এটি হলো মূলত আত্মকর্মসংস্থান। আত্মকর্মসংস্থান এর মাধ্যমে ব্যক্তির নিজের যেমন কর্মসংস্থান হয় তেমনি অনেক নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হয়।

Outsourcing (আউটসোর্সিং);

আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির একটি বৃহৎ ক্ষেত্র হলো আউটসোর্সিং। একটি প্রতিষ্ঠান কাজ নিজে রান্না করে তৃতীয় কোনো প্রতিষ্ঠান সাহায্যে করিয়ে নেওয়া কে আউটসোর্সিং বলা হয়। গতানুগতিক চাকরির বাইরে স্বাধীনভাবে কাজ করা হলো ফ্রিল্যান্সিং। একজন ফ্রীল্যান্সার কোন দীর্ঘস্থায়ী যুক্তি ছাড়া কাজ করতে পারেন।

কম্পিউটার ও ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে একজন ব্যক্তি যে কোন জায়গায় বসে ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজ গুলো করতে পারেন। হতে পারে তা ওয়েবসাইট তৈরি থ্রিডি এনিমেশন ছবিসম্পাদনা ডাটা এন্ট্রি বা লেখালেখি করা।

Data entry ডাটা এন্ট্রিঃ

ডাটা এন্ট্রি একটি উৎকৃষ্ট আই এর মাধ্যম। ডাটা এন্ট্রি মূলত টাইপ করা কে বোঝায়। বর্তমানে ডাটা এন্ট্রি মূলত পিডিএফ ফাইল দেখে কিছু টাইপ করা কে বোঝায়।
এছাড়া ডাটাএন্ট্রির আরেক ধরনের কাজ হলেও কোন জায়গা থেকে ডাটা সংগ্রহ করে তা শ্রেণীবদ্ধ করা বা অডিও শুনে বা ভিডিও ফাইল দেখে ডকুমেন্ট তৈরি করা।

Grafics desyn গ্রাফিক্স ডিজাইনিংঃ

গ্রাফিক্স ডিজাইনিং হল একটি ডিজাইন বা কোন আকৃতি কে কম্পিউটারের মাধ্যমে রূপ দেওয়া। সহজ ভাষায় বলতে গেলে কোন বিজ্ঞাপন ব্যানার টি-শার্ট ডিজাইন ফার্নিচার ডিজাইন প্রোডাক্ট ডিজাইনের কাজ গুলো কম্পিউটারের মাধ্যমে নিখুঁতভাবে ক্রিয়েটিভ আইডিয়া নিয়ে নিত্য নতুন ডিজাইন করার নামই গ্রাফিক্স ডিজাইন। গ্রাফিক্স ডিজাইনের কাজ জানা থাকলে একজন সহজেই নিজের কর্ম ক্ষেত্র তৈরি করে অর্থ উপার্জন করতে পারে।

ওয়েব ডেভলপমেন্ট ও অ্যাপ তৈরিঃ

ওয়েব সার্ভারে জমা রাখার তথ্য ইন্টারনেট ও ওয়েব ব্রাউজারের মাধ্যমে দর্শনযোগ্য করার প্রক্রিয়াকে এই ওয়েব ডেভলপমেন্ট বলে। ব্যক্তি কোন প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট বা কাজের সফটওয়্যার অ্যাপস তৈরি করে উপার্জন করতে পারেন।

Content righting কনটেন্ট রাইটিং কি?

কনটেন্ট রাইটিং বর্তমানে অনলাইন সেক্টরের একটি সম্মানজনক পেশা। কনটেন্ট রাইটিং একটি বিষয়ে সম্পূর্ণ নিজের মতো করে গুছিয়ে লেখা। লেখালেখির আগ্রহ এবং সহজ ভাষায় গুছিয়ে লেখার দক্ষতা থাকলে কনটেন্ট রাইটার হওয়া সম্ভব।

Facebook and youtube ফেইসবুকিং ও ইউটিউবিংঃ

ফেসবুক এবং ইউটিউব এর জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। আকর্ষণীয় বিষয়ে ইউটিউব চ্যানেল খুলে বা ফেসবুক পেইজ তৈরি করে বিজ্ঞাপন ও ভিউ প্রাপ্তির মাধ্যমে প্রচুর অর্থ উপার্জন করা যায়। ফেসবুক এবং ইউটিউব বর্তমান মার্কেটপ্লেসে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে এবং অনেক জনপ্রিয়তা পালন করেছে। এবং ভবিষ্যতে ফেসবুক এবং ইউটিউব এর মার্কেটিং ব্যাপকভাবে ভূমিকা পালন করবে এবং বড় আকার ধারণ করবে। ফেইসবুক ইউটিউবিং করে অনেক মানুষ অনেক টাকা ইনকাম করেছে এবং করতেছে আরো ভবিষ্যতে করবে।

Video edit ভিডিও এডিটিংঃ

ভিডিও এডিটিং এর মাধ্যমে সফল ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ রয়েছে। এবং বিশ্বব্যাপী এর চাহিদা ও ব্যাপক পরিমাণে রয়েছে। এক্ষেত্রে খ্যাতি সুনাম ও পরিস্থিতির সঙ্গে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের সম্ভাবনাও রয়েছে ভিডিও এডিটিং এর। চিত্রগ্রাহকদের ধারণা করা ভিডিও ফুটেজ এডিটিং সফটওয়্যার এর মাধ্যমে কাটছাঁট করা প্রদর্শকদের দেখার উপযোগী করে তোলার ভিডিও এডিটরের কাজ।

সরকারি উদ্যোগঃ

প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসেই প্রযুক্তি শিক্ষা ও আধুনিক প্রশিক্ষনের মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে করতে সরকার বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। জেলা উপজেলা ও থানা পর্যায়ে ইন্টারনেটের সম্প্রসারণ। সরকারের সহযোগী হয়ে কাজ করেছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস। তথ্য প্রযুক্তির প্রসারের মধ্য দিয়ে কর্মসংস্থান তৈরি লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারের অধীনে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল। এ প্রকল্পের আওতায় 33 হাজার 564 জন আইটি প্রশিক্ষিত ও দক্ষ জনবল তৈরি করা হয়। সরকার জেলা ভিত্তিক কম্পিউটার প্রশিক্ষণের প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে।
এছাড়াও তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগে উদ্যোগে জনগণকে স্মার্ট বাসায় মাধ্যমে প্রশিক্ষণ লাইনিং প্লাটফর্ম ইন ফোল্ডার তৈরি করা আইটিসি ক্যারিয়ার ক্যাম্প এক স্টুডেন্ট ল্যাপটপ মোবাইল গেম অ্যাপ্লিকেশন তৈরিতে প্রশিক্ষণ সহ বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। গ্রামের মানুষ যাতপ্রযুক্তিনির্ভর কাজে যুক্ত হতে পারে সেজন্য সরকার দেশব্যাপী 28 টি হাইটেক পার্ক তৈরীর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। আইসিটি খাতে রপ্তানি বাড়াতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর ফলে ফ্রিল্যান্সারদের কাজের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে। মাধ্যমিক স্তর থেকেই পাঠ্যসূচিতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক।

গ্রামের ছোট শ্রেণিকক্ষে ওয়াজ শিক্ষার্থীরা বইখাতা পাশাপাশি কম্পিউটার শিখতে শুরু করেছে। এর মধ্য দিয়ে তারা তথ্য প্রযুক্তির জ্ঞান অর্জন করবে এবং ভবিষ্যতে দক্ষ জনবল হিসেবে নিজেদেরকে গড়ে তুলতে পারবে।

বেসরকারি উদ্যোগঃ

সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও তথ্যপ্রযুক্তির মধ্য দিয়ে মানবসম্পদ তৈরির উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছে। এ প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে জেনেসিস ইনফোসিস ও সিনেসিস আইটি ব্রেন স্টেশন 23 এক্সোরা বিজেপি সিসটেক ডিজাইন ব্লাউস সপ মেডিয়াশপ এরা ইনফোটেক এনআইটি টেকনো ভিস্তা। আমরা টেকনোলজিস্ট বি ট্রাকে টেকনোলজি অ্যান্ড টেকনোলজি উল্লেখযোগ্য। ওয়ার্ল্ড আইটি ফাউন্ডেশনে দেশের একটি বৃহত্তম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ে কারিগরি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান উদ্দেশ্য তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক গবেষণায় এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির তরুণদের উদ্ভুদ্ধ করা।

এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটি যে কোর্সসমূহ দক্ষতার সাথে প্রশিক্ষণ দিয়ে যাচ্ছে সেগুলো হলো ডিপ্লোমা ইন আইটিসি ডিপ্লোমা ইন কম্পিউটার সায়েন্স ডিপ্লোমা ইন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপ্লোমা ইন গ্রাফিক ডিজাইন নেটওয়ার্কিং অটোক্যাড বেসিক এপ্লিকেশন কোর্স ভিডিও এডিটিং ইত্যাদি। অন্যদিকে 2022 সালের মধ্যে বাংলাদেশ তথ্য প্রযুক্তি বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই লাখ শিক্ষার্থীকে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে প্রদত্ত প্রযুক্তি প্রশিক্ষণ দাতা প্রতিষ্ঠান কোডার্সট্রাস্ট। বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষকে আত্ম সংস্থা আত্মকর্মসংস্থান উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
বর্তমানে কোডারসট্রাস্টে ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট গ্রাফিক্স ডিজাইন ডিজিটাল মার্কেটিং একাউন্টস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট ভিডিও প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্ট অ্যাডভান্সড বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এভাবেই এগিয়ে যাবে প্রযুক্তি।

Leave a Comment